মোটরসাইকেল, প্রাইভেট গাড়ি বা বাস যাই হোক- কোটি টাকার ব্যক্তিগত যানবাহনের ক্ষতি হলে (তাও বিনাদোষে অন্যের দ্বারা); যার হয় সেই বুঝে কষ্টটা কেমন! তা, আমাদের দেশে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু উত্তেজিত জনতা এমন কান্ডই ঘটিয়ে বসে।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের এক ছাত্র ক্যাম্পাসেই পিকআপ ভ্যানের ঢাক্কায় আহত হয়। এদিকে তাকে ঢাক্কা দেয়ার পরই ভ্যানটি পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে এ খবর ডিপার্টমেন্টে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় অ্যাকশন! ছাত্ররা রাস্তায় থাকা অন্যান্য যানবাহন অবিচারে ভাঙচুর করা শুরু করে।
বিবেকবান মানুষ অবাক! দোষ করলো কে, আর অ্যাকশন হচ্ছে কাদের ওপর? এটা কি ধরণের বিচার? দেশের বিচারব্যবস্থার কথা না হয় বাদই দেই, মানুষের বিবেক বলতেও একটা জিনিস আছে, এসব ছাত্রদের কি তাও মরে গেছে?
হ্যা, এমন বিকৃত বিবেক নিয়ে থাকা মাথা গরম পাবলিকরা প্রায়ই এমন কান্ড ঘটায়; যেমন আরো কিছু দিন আগে কার্জন হলের সামনে একটা মটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয়, যেখানে দোষটা ছিলো আরোহীর, ক্ষতিপূরণ আরোহীর কাছ থেকেই নেয়া যেতো।
যাই হোক- ক্ষতিপূরণের কথা যেহেতু উঠেছে তাই বলি- সাধারণত পথচারী আহত/নিহত হলে গাড়িচালক দ্রুত পালিয়ে যায়, কখনো গাড়িসহ কখনো বা গাড়ি ফেলে। তা, ঘটনাস্থলে গাড়িচালককে ধরতে না পারলে পাশের ট্রাফিক পুলিশকে পরবর্তী চৌরাস্তার পুলিশকে ওয়াকিটকির মাধ্যমে সেই দ্রুত ধাবমান যানটি আটকানোর নির্দেশ দিন। আশা করা যায়- পুলিশ সহায়তা করবে, আর যদি না হয় তাহলে দয়া করে আমরা যাতে একজনের রাগ আরেক জনের ওপর না ঝাড়ি। অর্থাৎ যে চালক ক্ষতি করেছে তাকে কিছু না করতে পেরে যাতে রাস্তার অন্যান্য নির্দোষ চালক ও তাদের যানের ওপর হামলা না করি।
এবার যদি চালককে ধরা সম্ভব হয়, তখন গাড়ি জব্দ করে সেই আহত/নিহতের পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে। ক্ষতিপূরণ নেয়ার উদ্দেশ্য সে যাতে পরবর্তীতে এমন বেপরোয়া গাড়ি না চালায়।
এদিকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো- কে ডাইভিং না জেনে চালাচ্ছে, কার ডাইভিং লাইসেন্স নেই- ইত্যাদি দেখা।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ন বিষয় যা না বললেই নয়- তাহলো আত্মসমালোচনা। আমাদের সমাজে কিছু মানুষ আছেন যারা রাস্তা পাড় হওয়ার সময় ওভারব্রিজ থাকা স্বত্বেও ব্যবহার করেন না, কখনো বা সিগন্যালের জন্য অপেক্ষা করেন না, কখনো বা দেখতেই পাচ্ছেন গাড়ি একেবারে সামনে তাও উপরি বাহাদুরি (আঞ্চলিক ভাষায় যাকে বলে ‘হেকরামি’) দেখিয়ে রাস্তা পাড় হন। ভাবখানা এমন- “আমি যেভাবে খুশি রাস্তা পাড় হবো, আমাকে দেখলে গাড়িকে থামাতেই হবে”। অথচ আমাদের এটা জানা উচিত যে- গাড়িকে দ্রুত হার্ড ব্রেক করা ডাইভারের পাশাপাশি যাত্রীদের জন্যও কষ্টকর। তাই রাস্তায় অধিকাংশ পথচারীদের বেখেয়ালি ভাব দেখে মনে হয়- রাস্তায় কিভাবে চলতে হয় বিশেষ করে আমাদের দেশের পেক্ষাপটে- এদেরকে সেটার প্রশিক্ষণ দরকার।
সবশেষে, যখন থেকে বুঝ হয়েছে, তখন থেকেই বিভিন্ন তুচ্ছ ঘটনায় অকারণে গাড়ি ভাঙচুরের রীতি দেখে আসছি- যদিও দোষ যে ব্যক্তির তাকে শাস্তি দাও- তার গাড়িকে বা অন্য কোনো নির্দোষ ব্যক্তি ও তাদের গাড়িকে নয়।
Views: 2
৪ Comments
সীমান্তের বিদ্রোহী
গাড়ী ভাইঙ্গা সাময়িক রাগ ঝাড়ে আর কি!বাংলাদেশে যত ইস্যু আছে,সবকিছুর সমাপ্তি গাড়ী ভাঙ্গা।
এতে অবশ্য বাঙ্গালীর কিছু হয়না।তারা এসবে অভ্যস্ত হয়ে গেছে।এজন্য ওরাও এই ভাঙ্গায় কিছু মনে করেনা।
সংখ্যালঘু
সভ্যতার শিক্ষা তো নেয়াই দরকার…
মাহফুজ বিন নোমানী
ai culture er change howa dorkar
সংখ্যালঘু
ঠিক!