ইসরাঈলী পণ্যবর্জনের মেয়াদ কি শেষ?
যখন দেখি, কেউ হাটতে হাটতে কোকাকোলা বা পেপসি খেয়ে যাচ্ছে, তখন মনে হয় আমার শরীর থেকে কেউ রক্ত চুষে খাচ্ছে।
যে পণ্যবর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিলো, ইসরাঈলী হামলা থামার সাথে সাথে আমাদের সেই পণ্যবর্জনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। যেসব পণ্য বর্জন করেছিলাম ,এখন থেকে সেগুলো আমাদের জন্য হালাল।
গত দুইটা মাসে ওদের পণ্য কেনা যথাসম্ভব বর্জন করার চেষ্টা করেছি। পুরোপুরি সফল হয়েছি বলা যাবেনা। অনেক ক্ষেত্রে কিনে না খেলেও অন্যদের খুশির জন্য খেতে হয়েছে। এখনও সেসব পণ্যবর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যখন চোখের সামনে কেউ ওগুলো কিনতে যায়, তখন ওদের সেসব কিনা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করি।
পরিবারের সবাইকে এগুলো কেনা থেকে বিরত রাখতে পারি নাই। গতরাতে দুলাভাই আমার ছোট ভাইকে বলছিলো, মিরান্ডা বা ফ্যান্টা কিনে নিয়ে এসো। বললাম-ভাই,এগুলো কিনে নিয়ে না আসাই ভালো। দেশীয় কোন পণ্য কেনাই ভালো। বললেন-দেশীয় পণ্য কি খাওয়ার উপযোগী নাকি? ওদের কোয়ালিটি কত উন্নত!
আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাফেতে ঢুকে একটা ঠান্ডা পানীয়র অর্ডার করলাম। সবসময় মজো বা ক্লেমন পাওয়া যায়। আজ স্প্রাইট দিলো। বললাম-এটা কেনো? অন্য কিছু দেন। বললো-এইটাই আছে। আর কিছু নেই। এইসময় ছোট ভাই কাছে এসে বলছে-ইসরাঈলী পণ্য তো! তাই খাবেন না? -হু। তুমি নিয়ে নাও।
কিছুক্ষণ পরে দেখি এক ফ্রেন্ড তার গেস্ট নিয়ে ক্যাফেতে ঢুকে স্প্রাইট খাচ্ছে। বললাম-এটা কি? তুমিও ইসরাঈলী পণ্য ব্যবহার করো? একটা হাসি দিলো আর বললো-এটা ইসরাঈলী পণ্য জানতাম না। কিছুক্ষণ ইসরাঈলী পণ্য ও ওদের সম্পর্কে বয়ান দিলাম।
কিছুদিন পূর্বের মেডিকেল ক্যাম্পে মিনারেল ওয়াটারের বোতল দেখে পরিচালক ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম-ভাইয়া, আমরা নিজেরা যদি ইসরাঈলী পণ্য বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বর্জন করতে না পারি, তাহলে অন্য মানুষগুলো কিভাবে এটা বর্জন করবে। পরিচালক বললেন-দেখো! আশেপাশে অনেক ঘুরেছি কিন্তু কোথাও এটা ছাড়া অন্য কোন মিনারেল ওয়াটার খুজে পেলামনা।
দুলাভাই আমার এইসব ব্যবহার দেখে ক্ষিপ্ত হলেও প্রায় সময়ই বলে-আহমদ, আমরা এমন জায়গায় আছি, যেখান থেকে ওদের ছাড়তেও পারছিনা আবার ধরে রাখতেও পারছিনা। ওদের কোয়ালিটি দেশীয় পণ্যের চেয়ে হাজার গুণ বেশী উন্নত। যদি দেশীয় পণ্য সমকক্ষ হতে পারে, তাহলে ওদের সমস্ত পণ্যবর্জন করে ফেলা যাবে।
আমরা মুসলমানরাই অনেক বেশী আবেগী। যখন গাজাতে ইসরাঈলী হামলার সময় শত শত ফিলিস্তিনি আহত হয়েছিলো, তখন আমাদের ঈমান অনেক বেড়ে গিয়েছিলো। কিন্তু যখন ইসরাঈল তার হামলা বন্ধ করে দিলো, তখন আমরা আবার তাদেরকে তাদের পূর্বের অবস্হানে ফিরিয়ে নিয়ে গেলাম।
ফেসবুক, ব্লগে বসে বসে অনেক বড় বড় কথা বলে বাস্তবে কি করছি, সেটা আমরা অনেকেই জানি না। অনলাইনে ঢুকে কোন ফিলিস্তিনির রক্তাক্ত লাশ দেখে শপথ নিয়ে নিলাম, আর ইসরাঈলী পণ্য ব্যবহার করবোনা। কিন্তু আবার যখনই পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিত মহলে আনন্দে মেতে উঠি,তখন সবাইই এই শপখটা ভুলে যাই। আনন্দ উদযাপনের সময়টা পার করি কোকাকোলা,পেপসি,স্প্রাইট বা মিরান্ডা ও ফ্যান্টা খেয়ে। যা অনেকটা একজন মুসলিমের রক্ত চুষে খাওয়ার মতই।
ইসরাঈল তার হামলা বন্ধ করেছে। কিন্তু এটাই চিরস্হায়ী নয়। আবার তারা প্রস্তুতি নিয়ে মুসলমানদের উপর ঝাপিয়ে পড়বে। তাদের কাছে ঐ চুক্তিপত্রটা একটা কাগজ বৈ বেশী কিছু নয়।
তাদের অর্থনীতি আরো বেশী সমৃদ্ধ করবে। সৈন্যবাহিনীকে নতুন করে সাজিয়ে তুলবে। নতুন নতুন অস্ত্র তৈরী করবে।মুসলিমদের বিরুদ্ধে নতুন করে আগ্রাসনের পরিকল্পনা গ্রহন করবে। আর এটা করছে আমার-আপনার পূর্ণ সহযোগিতায়।
হ্যাঁ! আমি-আপনিই তাদেরকে সে সুযোগটা করে দিচ্ছি। যে পণ্যগুলো ক্রয় করে নিজেদের লাভবান মনে করি, মনে মনে উৎফুল্ল হই, সেই পণ্যের লভ্যাংশ চলে যাচ্ছে ইসরাঈলীদের হাতে। আর ওরা সেই টাকাতেই প্রস্তুতি নিচ্ছে মুসলিম নিধনের।
আসুন, আমরা আমাদের নিজেদের জাগিয়ে তুলি এবং শুধু কথার স্কলার হয়ে নয়, কাজের স্কলার হয়ে আমাদের প্রমাণ করে দেই- আমরা প্রাকিটিসিং মুসলিম ।।
Views: 1
৪ Comments
Abbas Islam Khan
কিছুটা তো কাজ হয়েছেই। সাধারণত এই ধরণের ক্যাম্পেইনের রেজাল্ট সাথে সাথে পাওয়া যায় না। তবে ভাল কাজে দিয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী লসের কারণে ইসরাঈল ছেড়ে চলে গিয়েছে। ইসরাঈলের কয়েকশত ধনী ব্যবসায়ীরা সরকারকে দেশের ইকোনমি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে। বিশেষ করে পাশ্চাত্যে আগের চেয়ে অনেক বেশী ক্ষোভ ও ঘৃণা জন্মেছে ইসরাঈলের বিরুদ্ধে।
এই ক্যাম্পেইনের রেজাল্ট যতটুকু এসেছে সেটাই বা কম কি সে! সবচেয়ে মজার বিষয় হলো ইসরাঈলের পণ্য সবচেয়ে বেশী বিক্রি হয় ফিলিস্তিনে, কারণ এখানে সাধারণ অন্য জায়গা থেকে পণ্য আসতে পারে। সেই ফিলিস্তিন এখন সরব বিপ্লব চলছে ইসরাঈলী পণ্য বিক্রির বিপক্ষ্যে। নিচে লিঙ্ক দেয়া ডকুমেন্টারীটি দেখতে পারেন। কিছুটা জানতে পারবেন এই ক্যাম্পেইন সম্পর্কে: https://www.youtube.com/watch?v=_DLbiZUfq-s
সীমান্তের বিদ্রোহী
ধন্যবাদ এটা শেয়ার করার জন্য। 🙂
সংখ্যালঘু
চেষ্টায় আছি…
সীমান্তের বিদ্রোহী
নোমান ভাই@ঐ সময়ের ইসরাঈলী পণ্য বর্জনে ইসরাঈল প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো।কিন্তু ইসরাঈল এখন ঘুরে দাড়াচ্ছে।হয়ত কিছু সময়ের মধ্যে আবার পূর্বের অবস্হানে চলে যাবে।এজন্য এই বর্জনটা ধারাবাহিকভাবে ধরে রাখতে চাই।